• Home
  • Insights
  • ভারতের জাতীয় সংগীতের সুরে যবনীপুরের (জাফনা) সংগীতের ছায়া? AI বিশ্লেষণে উন্মোচিত বিস্ময়কর মিল!

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জনগণমন’ এবং শ্রীলঙ্কার অন্যতম ঐতিহাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাফনা হিন্দু কলেজের সঙ্গীতের মধ্যে কি কোনো সুরের যোগ আছে? গণিত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং গাণিতিক সংগীততত্ত্ব ব্যবহার করে দুটি মূল রেকর্ডিং তুলনা করা একটি গবেষণা।

গবেষণা নিবন্ধ: কেশবন থিয়াগরাজা

B.Sc. (Computer Science, Mathematics and Statistics)
M.Sc. (Information Technology)
E-Commerce Professional
Private AI Model Developer & AI Security Consultant
Helping SMEs and Enterprises Build Secure AI Solutions
Sydney, Australia

এক শতাব্দীর সংগীত রহস্য

ভারতের জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’ হলো একটি অসাধারণ সঙ্গীত সৃষ্টি, যা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভারতীয়ের দেশপ্রেম এবং জাতীয় পরিচয়কে প্রতিফলিত করে।

নোবেল পুরস্কার বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত এই সংগীত ভারতের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে একটি অনন্য স্থান দখল করে আছে।

কিন্তু এই সংগীত এবং ভারতের অতি নিকটে, শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলের জাফনায় ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে প্রতিষ্ঠিত একটি বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গানের মধ্যে কি সুরের কোনো মিল থাকতে পারে?

সেই প্রতিষ্ঠানটি হলো জাফনা হিন্দু কলেজ (யாழ்ப்பாணம் இந்துக் கல்லூரি)।

এই কলেজের গান ‘ভা঴িয়া য়া঴নগর হিন্দু কল্লুরি’ যখন ভারতের জাতীয় সংগীতের সাথে তুলনা করা হয়, তখন একটি মজার প্রশ্নের জন্ম হয়।

এই দুটি গান কি একই সঙ্গীত ঐতিহ্য থেকে এসেছে? এদের সুরের মধ্যে কি গাণিতিকভাবে পরিমাপযোগ্য কোনো মিল আছে? নাকি একটি গান অন্যটির সুরের কাঠামোর প্রভাবে রচিত হয়েছিল?

এই গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আবেগপ্রবণ মতামতের ভিত্তিতে নয়, বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক প্রমাণের ভিত্তিতে দেওয়ার উদ্দেশ্যে।

১. ভারতের জাতীয় সংগীতের ইতিহাস

ভারতের জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষায় রচনা করেছিলেন।

গানটি প্রথম পরিবেশিত হয় ১৯১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর কলকাতায় অনুষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে।

ভারতের স্বাধীনতার পর, ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি, ভারতের গণপরিষদ ‘জনগণমন’-কে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করে।

এই সংগীতের সুরের কাঠামো রবীন্দ্রসংগীত ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত।

ঠাকুর ভারতীয় সঙ্গীত ঐতিহ্যের সাথে তার অনন্য সৃজনশীলতার মেলবন্ধন ঘটিয়ে অসংখ্য সঙ্গীতকর্ম সৃষ্টি করেছেন।

তাই তার সংগীতের উৎপত্তি ও বিকাশ অধ্যয়ন করা ভারতীয় সঙ্গীত ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

২. জাফনা হিন্দু কলেজের ইতিহাস

জাফনা হিন্দু কলেজ শ্রীলঙ্কার অন্যতম বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিজ্ঞানী, গণিতবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ তৈরি করেছে।

কলেজের অফিসিয়াল ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, এর সঙ্গীত রচনা করেছেন বিদ্বান কে. কার্তিকেসু।

সুরারোপ করেছেন বিদ্বান সি. আরুমুগম।

‘ভা঴িয়া য়া঴নগর হিন্দু কল্লুরি’ পদ দিয়ে শুরু হওয়া এই সঙ্গীত কলেজের সাংস্কৃতিক পরিচয় হয়ে উঠেছে।

তবে, এই গবেষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক শূন্যতা চিহ্নিত করেছে।

সঙ্গীতটির মূল সুর কোন বছরে রচিত হয়েছিল, তা নির্ধারণ করে এমন কোনো চূড়ান্ত নথি এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

যদিও কলেজটি ১৯১১ সালের আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, আমরা এর থেকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি না যে এর বর্তমান সঙ্গীতও সেই বছরের আগে রচিত হয়েছিল।

দুটি গানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করার সময় এটি বিবেচনায় নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

৩. যখন দুটি গান কম্পিউটারে তুলনা করা হলো…

এই গবেষণার জন্য দুটি মূল MPEG রেকর্ডিং ব্যবহার করা হয়েছিল।

প্রথম রেকর্ডিংটি হলো ভারতের জাতীয় সংগীত, ‘জনগণমন’।

দ্বিতীয় রেকর্ডিংটি হলো জাফনা হিন্দু কলেজের সঙ্গীত।

এই দুটি রেকর্ডিংয়ের সুরের বৈশিষ্ট্যগুলো Python প্রোগ্রামিং ভাষা, সঙ্গীত বিশ্লেষণ লাইব্রেরি Librosa এবং Digital Signal Processing কৌশল ব্যবহার করে তুলনা করা হয়েছিল।

গবেষণায় নথিভুক্ত মৌলিক পরিমাপ:

গবেষণার বৈশিষ্ট্য ভারতের জাতীয় সংগীত হিন্দু কলেজের সঙ্গীত
রেকর্ডিংয়ের দৈর্ঘ্য ৬১.৭৩ সেকেন্ড ৩০৪.৭৯ সেকেন্ড
আনুমানিক তাল (Tempo) ১০৭.৭ BPM ৮৬.১ BPM
বিশ্লেষণের স্যাম্পলিং রেট ১১,০২৫ Hz ১১,০২৫ Hz
পিচ (Pitch) বিশ্লেষণ সম্পন্ন সম্পন্ন

যদিও দুটি রেকর্ডিং দৈর্ঘ্য ও তালে ভিন্ন, মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের পিচ কাঠামোতে মিল আছে কিনা তা পরীক্ষা করা।

৪. গবেষণার বিস্ময়কর গাণিতিক ফলাফল

দুটি গানের পিচ কাঠামো তুলনা করার সময়, নির্দিষ্ট কিছু সঙ্গীত অংশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গাণিতিক মিল পাওয়া গেছে।

Harmonic Chroma Analysis পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, দুটি গানের নির্বাচিত ২০ সেকেন্ডের সঙ্গীত অংশের মধ্যে গড় Chroma সাদৃশ্যের সর্বোচ্চ মান ০.৯৯২ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

টাইম-সিরিজ ভিত্তিক Chroma তুলনায়, সর্বোচ্চ মান ছিল ০.৫৯৪।

এই মানগুলো ০ থেকে ১ স্কেলে গণনা করা হয়।

০.৯৯২ মানের অর্থ এই নয় যে দুটি গান ৯৯.২ শতাংশ একই সুর ভাগ করে নিয়েছে।

এই পরিমাপটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সঙ্গীত অংশে ব্যবহৃত পিচ শ্রেণীর গড় কাঠামোর মধ্যে সাদৃশ্য নির্দেশ করে।

একইভাবে, ০.৫৯৪ সময়গত সাদৃশ্যের মান এই প্রমাণ করে না যে দুটি গানের সুর একই।

দুটি পরিমাপই ভিন্ন ভিন্ন সঙ্গীত বৈশিষ্ট্য মূল্যায়ন করে।

এটিই এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

৫. কোন সঙ্গীত অংশে মিল পাওয়া গেছে?

গাণিতিক তুলনায়, নিম্নলিখিত সঙ্গীত অংশগুলোর মধ্যে শক্তিশালী সাদৃশ্য নথিভুক্ত হয়েছে।

ভারতের জাতীয় সংগীত জাফনা হিন্দু কলেজের সঙ্গীত সাদৃশ্যের মান
0:00-0:20 0:39-0:59 ০.৫৯৪
0:00-0:20 3:57-4:17 ০.৫৯০
0:05-0:25 0:43-1:03 ০.৫৭৫
0:00-0:20 0:05-0:25 ০.৫৭৪

এই ফলাফলগুলো পিচ-ভিত্তিক গাণিতিক তুলনা থেকে এসেছে।

বিশেষত, ভারতের জাতীয় সংগীতের শুরুর সঙ্গীত অংশ এবং জাফনা হিন্দু কলেজের সঙ্গীতের নির্দিষ্ট কিছু অংশের মধ্যে মিল পাওয়া গেছে।

তা সত্ত্বেও, শুধুমাত্র এই ভিত্তিতে দাবি করা যায় না যে এই সময় অংশগুলোতে গাওয়া মূল সুরগুলো সম্পূর্ণরূপে একই।

৬. কেন দুটি সেমিটোন ট্রান্সপোজিশনে সাদৃশ্য বেড়ে গেল?

সংগীততত্ত্বে ট্রান্সপোজিশন নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা রয়েছে।

একটি গানের মূল সুর না বদলিয়ে তার কী (Key) পরিবর্তন করাকে ট্রান্সপোজিশন বলে।

উদাহরণস্বরূপ, একটি গান পুরুষ কণ্ঠের জন্য উপযুক্ত কী-তে গাওয়া যেতে পারে। একই সুর মহিলা কণ্ঠের জন্য ভিন্ন কী-তে সাজানো যেতে পারে।

দুটি গানের রেকর্ডিং ভিন্ন ভিন্ন কী-তে থাকলেও, তাদের মৌলিক সুরের কাঠামোতে মিল থাকতে পারে।

এই গবেষণায়, দুটি সেমিটোনের ট্রান্সপোজিশনের অনুমতি দিয়ে বৃহত্তর সাদৃশ্য পাওয়া গেছে।

এটি গভীর সংগীততাত্ত্বিক গবেষণার যোগ্য একটি ফলাফল।

কিন্তু ট্রান্সপোজিশনের পরে সাদৃশ্য বেড়ে যাওয়া এই একক তথ্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না যে একটি গান অন্যটির সুর নকল করেছে।

৭. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি সংগীতের ইতিহাস আবিষ্কার করতে পারে?

বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি সংগীত গবেষণার জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

Music Information Retrieval, Machine Learning, Digital Signal Processing এবং Deep Learning-এর মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে হাজার হাজার সঙ্গীতকর্মের মধ্যে সাদৃশ্য পরীক্ষা করা সম্ভব।

বিশেষত, একটি সঙ্গীতকর্মের নোটের ক্রম, তালবিদ্যার কাঠামো, সুরের ব্যবধান এবং সুরের বাক্যাংশ গাণিতিকভাবে বিশ্লেষণ করা যায়।

Dynamic Time Warping-এর মতো পদ্ধতি ব্যবহার করে, ভিন্ন গতিতে গাওয়া দুটি সঙ্গীত ক্রমের মধ্যে সাদৃশ্যও মূল্যায়ন করা যায়।

কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দুটি সঙ্গীতকর্মের মধ্যে সাদৃশ্য শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু ঐতিহাসিক প্রমাণ ছাড়া, এটি প্রমাণ করতে পারে না যে সেই সাদৃশ্য সুর নকলের ফলাফল।

একটি সঙ্গীতকর্ম অন্যটির প্রভাব থেকে জন্ম নিয়েছে কিনা তা জানতে হলে, তাদের কালক্রম, মূল স্বরলিপি এবং ঐতিহাসিক দলিল অপরিহার্য।

৮. ইতিহাসে এখনো উত্তরহীন প্রশ্ন

এই গবেষণার পরবর্তী ধাপে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

বিদ্বান কে. কার্তিকেসু কোন বছরে জাফনা হিন্দু কলেজের সঙ্গীত রচনা করেছিলেন?

বিদ্বান সি. আরুমুগম কোন বছরে তাতে সুরারোপ করেছিলেন?

এই সঙ্গীত কি কলেজের প্রাথমিক বার্ষিকীতে পাওয়া যায়?

এর পুরনো স্বরলিপি বা মূল রেকর্ডিং কি সংরক্ষিত আছে?

ভারতের জাতীয় সংগীত এবং জাফনা হিন্দু কলেজের সঙ্গীতের মধ্যে ঐতিহাসিক সঙ্গীত বিনিময়ের প্রমাণ আছে কি?

এই প্রশ্নগুলোর চূড়ান্ত উত্তর পাওয়ার পরই দুটি গানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

৯. এই গবেষণা কী প্রমাণ করেছে? কী এখনো প্রমাণিত হয়নি?

এই গবেষণার ফলাফল তিনটি স্তরে বোঝা উচিত।

প্রথমত: গাণিতিকভাবে শনাক্ত করা সাদৃশ্য

দুটি রেকর্ডিংয়ের নির্দিষ্ট অংশের মধ্যে পিচ-ভিত্তিক সাদৃশ্য নথিভুক্ত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: এখনো নিশ্চিত হয়নি এমন সুরের যোগ

দুটি গানের মূল সুর একই সঙ্গীত কাঠামো ভাগ করে নেয় তা সম্পূর্ণরূপে প্রমাণিত হয়নি।

তৃতীয়ত: অপ্রমাণিত ঐতিহাসিক দাবি

ভারতের জাতীয় সংগীত জাফনা হিন্দু কলেজের সঙ্গীতের সুর নকল করেছে, অথবা জাফনা হিন্দু কলেজের সঙ্গীত ভারতের জাতীয় সংগীতের সুর অনুসরণ করেছে — এই বলার জন্য বর্তমানে পর্যাপ্ত ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।

তদুপরি, এই গবেষণা দুটি গানের মূল সুর আলাদাভাবে বিচ্ছিন্ন করেনি এবং সম্পূর্ণ স্বরলিপি তুলনাও পরিচালনা করেনি। অন্য অসংশ্লিষ্ট গানের সাথে তুলনা করে কোনো পরিসংখ্যানগত পরীক্ষাও করা হয়নি।

অতএব, এখানে উপস্থাপিত ফলাফলগুলোকে প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা একটি গাণিতিক সংগীততত্ত্ব গবেষণার সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

১০. ভারতীয় সংগীত গবেষক ও ইতিহাসবিদদের প্রতি উন্মুক্ত আহ্বান

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় সংগীততত্ত্ব, ইতিহাস, গণিত এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ক্ষেত্রে কাজ করা গবেষকরা এই প্রশ্নটি আরও ব্যাপকভাবে অধ্যয়ন করতে পারেন।

বিশেষত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গীত ঐতিহ্যের বিশেষজ্ঞরা, জাফনা হিন্দু কলেজের ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণকারীরা এবং গাণিতিক সংগীততত্ত্বের গবেষকরা একসাথে কাজ করলে, এই গবেষণা এগিয়ে যেতে পারে।

দুটি গানের মূল সুর আলাদাভাবে বিচ্ছিন্ন করা, তাদের স্বরলিপি তৈরি করা এবং ঐতিহাসিক প্রমাণের সাথে তুলনা করা হলো পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এই গবেষণার উদ্দেশ্য কোনো দেশের জাতীয় সংগীত বা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা নয়।

বরং, এর উদ্দেশ্য হলো দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধ সঙ্গীত ঐতিহ্যের মধ্যে বিদ্যমান থাকতে পারে এমন ঐতিহাসিক সম্পর্কগুলোকে বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করা।

১১. চূড়ান্ত উপসংহার: সুরের মিল পাওয়া গেছে। কিন্তু ঐতিহাসিক সত্য এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ভারতের জাতীয় সংগীত এবং জাফনা হিন্দু কলেজের সঙ্গীতের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা কিছু মজার গাণিতিক ফলাফল উন্মোচিত করেছে।

দুটি রেকর্ডিংয়ের নির্বাচিত অংশে পিচ কাঠামোর মধ্যে পরিমাপযোগ্য সাদৃশ্য বিদ্যমান।

কিন্তু এই সাদৃশ্যগুলো একটি সাধারণ সঙ্গীত ঐতিহ্যের ফলাফল কিনা, কাকতালীয় কিনা, নাকি ঐতিহাসিক সঙ্গীত প্রভাবের ফলাফল কিনা — তা নির্ধারণ করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন।

বর্তমান প্রমাণ এই দাবি প্রমাণ করে না যে ভারতের জাতীয় সংগীত জাফনা হিন্দু কলেজের সঙ্গীতের সুর নকল করেছে।

একই সময়ে, এই গবেষণা দুটি গানের মধ্যে সুরের সাদৃশ্য পদ্ধতিগতভাবে পরীক্ষা করার জন্য একটি সূচনা বিন্দু প্রদান করে।

আমরা ইতিহাসকে আমাদের ইচ্ছামতো লিখতে পারি না। কিন্তু বিজ্ঞান, গণিত এবং প্রযুক্তির সাহায্যে ইতিহাসে লুকিয়ে থাকা সত্যকে খুঁজতে থাকতে পারি।

এটিই এই গবেষণার ভিত্তি।

গাণিতিকভাবে ভাবুন। বুদ্ধিমত্তার সাথে ইঞ্জিনিয়ার করুন। কৌশলগতভাবে নেতৃত্ব দিন। দায়িত্বের সাথে তৈরি করুন। বিশ্বজুড়ে সম্প্রসারিত হন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে প্রকৃত ব্যবসায়িক মূল্য তৈরি করুন।

#JanaGanaMana #YaalpaanamHinduCollege #NationalAnthem #Musicology #ITImpress

Share this post

Subscribe to our newsletter

Keep up with the latest blog posts by staying updated. No spamming: we promise.
By clicking Sign Up you’re confirming that you agree with our Terms and Conditions.