• Home
  • Insights
  • ভারতের জাতীয় সংগীত ও য়া঴প্পাণম Hindu College-এর সঙ্গীত: কোনটি আগে রচিত হয়েছিল? AI গবেষণায় আবিষ্কৃত সঙ্গৈতিক মিল এবং এখনও উত্তরহীন ঐতিহাসিক প্রশ্ন!

1890 সালে প্রতিষ্ঠিত জাফনা Hindu College-এর সঙ্গীত এবং 1911 সালে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘Jana Gana Mana’-এর মধ্যে কি কোনো সঙ্গৈতিক সংযোগ আছে? গণিত, কম্পিউটেশনাল মিউজিকোলজি এবং ঐতিহাসিক উৎসের ভিত্তিতে দুটি রেকর্ডিং তুলনা করা একটি অনুসন্ধানমূলক গবেষণা।

গবেষণা প্রবন্ধ: কেশবন থিয়াগরাজা

B.Sc. (Computer Science, Mathematics and Statistics)
M.Sc. (Information Technology)
E-Commerce Professional
Private AI Model Developer & AI Security Consultant
Helping SMEs and Enterprises Build Secure AI Solutions
Sydney, Australia

গবেষণার তারিখ: ৩ নভেম্বর ২০২৬

গবেষণা সারসংক্ষেপ (Abstract)

এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হলো তদন্ত করা যে ভারতের জাতীয় সংগীত ‘Jana Gana Mana’ এবং শ্রীলঙ্কার অন্যতম ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান জাফনা Hindu College-এর সঙ্গীত ‘Vaazhiya Yaazhnagar Hindu Kalloori’-এর মধ্যে কোনো সঙ্গৈতিক মিল আছে কিনা।

এই গবেষণায় কম্পিউটেশনাল মিউজিকোলজির পদ্ধতি ব্যবহার করে দুটি সঙ্গীতের রেকর্ডিং তুলনা করা হয়েছে। বিশেষ করে Python, Librosa, Digital Signal Processing এবং Chroma-based Similarity Analysis-এর মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

পূর্বে পরিচালিত কম্পিউটার-ভিত্তিক তুলনামূলক বিশ্লেষণে নির্বাচিত সঙ্গীত অংশগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ গড় ক্রোমা মিল স্কোর 0.992 এবং সর্বোচ্চ সময়-সংরেখিত ক্রোমা মিল স্কোর 0.594 পরিমাপ করা হয়েছিল।

এই মানগুলো দেখায় যে দুটি সঙ্গীতের কিছু সঙ্গৈতিক বৈশিষ্ট্যে গাণিতিক মিল রয়েছে। তবে এগুলো প্রমাণ করে না যে দুটি সঙ্গীতের মূল সুর অভিন্ন, অথবা একটি সঙ্গীত অন্যটি থেকে নকল করা হয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে, জাফনা Hindu College 1890 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ভারতের জাতীয় সংগীত ‘Jana Gana Mana’ 1911 সালে রচিত হয়েছিল এবং একই বছরের 27 ডিসেম্বর প্রথম গাওয়া হয়েছিল।

তবে জাফনা Hindu College-এর সঙ্গীত কোন বছরে প্রথম রচিত ও সুরারোপিত হয়েছিল তা নির্ধারণ করে এমন কোনো সুস্পষ্ট ঐতিহাসিক দলিল এখনও পাওয়া যায়নি।

অতএব, বর্তমানে উপলব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে দুটি সঙ্গীতের কোনটি আগে সৃষ্টি হয়েছিল বা তাদের মধ্যে সঙ্গৈতিক প্রভাব ছিল কিনা তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

এই গবেষণা দুটি সঙ্গীতের মধ্যকার সঙ্গৈতিক মিল এবং তাদের ঐতিহাসিক কালক্রম সম্পর্কে অউত্তরিত প্রশ্নগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে উপস্থাপন করে।

1. ভূমিকা: এক শতাব্দীজুড়ে বিস্তৃত একটি ঐতিহাসিক প্রশ্ন

ভারতের জাতীয় সংগীত ‘Jana Gana Mana’ এমন একটি সঙ্গীত সৃষ্টি যা সারা বিশ্বে ভারতীয় জনগণের জাতীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক গর্বকে প্রতিফলিত করে।

নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত এই সংগীত ভারতের ইতিহাসে এক অনন্য স্থান দখল করে আছে।

ভারতের কাছাকাছি শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলের জাফনায় 1890 সালে প্রতিষ্ঠিত জাফনা Hindu College-এরও দীর্ঘ শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস রয়েছে।

কলেজের সঙ্গীত ‘Vaazhiya Yaazhnagar Hindu Kalloori’ এবং ভারতের জাতীয় সংগীত ‘Jana Gana Mana’-এর সঙ্গৈতিক কাঠামো তুলনা করলে একটি মজার গবেষণা প্রশ্ন সামনে আসে।

দুটি সঙ্গীতের মধ্যে কি সঙ্গৈতিক মিল আছে? থাকলে, তা কি একটি সাধারণ সঙ্গীত ঐতিহ্যের ফল, কাকতালীয় মিল, নাকি একটি সঙ্গীত সৃষ্টি অন্যটির প্রভাব থেকে জন্ম নিয়েছে?

এই প্রশ্নের উত্তর দিতে দুটি পৃথক তদন্ত প্রয়োজন।

প্রথমত, বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক পদ্ধতিতে দুটি সঙ্গীতের সুরের মধ্যকার মিল মূল্যায়ন করা।

দ্বিতীয়ত, নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক দলিলের ভিত্তিতে দুটি সঙ্গীত প্রথম কোন বছরে রচিত ও সুরারোপিত হয়েছিল তা নির্ণয় করা।

দুটি তদন্ত একে অপরকে পরিপূরক হলেও, তারা ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়।

2. ভারতের জাতীয় সংগীতের ইতিহাস

ভারতের জাতীয় সংগীত ‘Jana Gana Mana’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষায় রচনা করেছিলেন।

এই গান 1911 সালের 27 ডিসেম্বর কলকাতায় অনুষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে প্রথম গাওয়া হয়েছিল।

ভারতের স্বাধীনতার পর, ভারতের সংবিধান সভা 1950 সালের 24 জানুয়ারি ‘Jana Gana Mana’-কে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করে।

ঠাকুর কেবল কবিই ছিলেন না, তিনি একজন সুরকারও ছিলেন যিনি একটি নিজস্ব সঙ্গীত ঐতিহ্য তৈরি করেছিলেন।

তাঁর সঙ্গীত রচনাগুলো ‘রবীন্দ্রসংগীত’ নামে পরিচিত।

তাঁর সৃষ্টিগুলো ভারতীয় সঙ্গীত ঐতিহ্য, বাঙালি সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন সঙ্গৈতিক প্রভাবের পটভূমিতে জন্ম নিয়েছিল।

তবে ‘Jana Gana Mana’-এর সঙ্গৈতিক কাঠামো এবং জাফনা Hindu College-এর সঙ্গীতের মধ্যে সরাসরি ঐতিহাসিক সংযোগ দেখায় এমন কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল এখনও পাওয়া যায়নি।

3. জাফনা Hindu College-এর ইতিহাস

1890 সালে প্রতিষ্ঠিত জাফনা Hindu College শ্রীলঙ্কার অন্যতম ঐতিহাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

বহু প্রজন্ম ধরে এই কলেজ বিজ্ঞানী, গণিতবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ তৈরি করেছে।

কলেজের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এর সঙ্গীত রচনা করেছেন বিদ্বান K. Karthigesu।

সুরারোপ করেছেন বিদ্বান S. Arumugam।

‘Vaazhiya Yaazhnagar Hindu Kalloori’ পঙ্克্তি দিয়ে শুরু হওয়া এই সঙ্গীত কলেজের সাংস্কৃতিক পরিচয় হিসেবে রয়ে গেছে।

কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রশ্ন উঠে আসে।

যেহেতু কলেজটি 1890 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তাই কি আমরা বলতে পারি যে এর বর্তমান সঙ্গীতও 1890 সালে তৈরি হয়েছিল?

না।

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠার বছর এবং তার সঙ্গীত রচনার বছর অবশ্যই মিলতে হবে এমন কোনো কথা নেই।

তার সঙ্গীত কলেজ প্রতিষ্ঠার অনেক বছর পরে রচিত হয়ে থাকতে পারে।

অতএব, জাফনা Hindu College-এর প্রতিষ্ঠার বছর একাই তার সঙ্গীতের প্রাচীনতার প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে না।

4. কোন সঙ্গীতটি আগে তৈরি হয়েছিল?

এটিই এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রশ্ন।

ঐতিহাসিক তথ্য বছর প্রমাণের অবস্থা
জাফনা Hindu College প্রতিষ্ঠিত 1890 ঐতিহাসিক প্রমাণ আছে
ভারতের জাতীয় সংগীত ‘Jana Gana Mana’ রচিত 1911 নিশ্চিত
‘Jana Gana Mana’ প্রথম গাওয়া 27 ডিসেম্বর 1911 নিশ্চিত
জাফনা Hindu College-এর সঙ্গীত রচিত পাওয়া যায়নি আরও প্রমাণ প্রয়োজন
জাফনা Hindu College-এর সঙ্গীতের মূল সুর তৈরি পাওয়া যায়নি আরও প্রমাণ প্রয়োজন

এই ছকটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য উন্মোচন করে।

যদিও জাফনা Hindu College ভারতের জাতীয় সংগীত রচনার 21 বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না যে তার সঙ্গীতও আগে তৈরি হয়েছিল।

এছাড়া, গানের কথা লেখার বছর এবং সুর তৈরির বছর ভিন্ন হতে পারে।

অতএব, দুটি সঙ্গীতের প্রকৃত কালক্রম নির্ধারণের জন্য তাদের মূল সুর রচনার তারিখ অপরিহার্য।

এই ঐতিহাসিক শূন্যস্থান পূরণ না হওয়া পর্যন্ত, কোন সঙ্গীতসুর আগে সৃষ্টি হয়েছিল তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

5. যখন দুটি সঙ্গীতের রেকর্ডিং কম্পিউটারে তুলনা করা হলো

এই গবেষণার জন্য দুটি MPEG রেকর্ডিং ব্যবহার করা হয়েছিল।

প্রথমত, ভারতের জাতীয় সংগীত ‘Jana Gana Mana’।

দ্বিতীয়ত, জাফনা Hindu College-এর ‘Vaazhiya Yaazhnagar Hindu Kalloori’।

উভয় রেকর্ডিং Python ও Librosa-ভিত্তিক Digital Signal Processing পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছিল।

গবেষণায় নথিভুক্ত মৌলিক পরিমাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:

গবেষণা বৈশিষ্ট্য ভারতের জাতীয় সংগীত Hindu College-এর সঙ্গীত
রেকর্ডিং-এর দৈর্ঘ্য 61.73 সেকেন্ড 304.79 সেকেন্ড
আনুমানিক গতি 107.7 BPM 86.1 BPM
বিশ্লেষণের স্যাম্পলিং রেট 11,025 Hz 11,025 Hz
Chroma সঙ্গীত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ পরিচালিত পরিচালিত

দুটি রেকর্ডিং-এর দৈর্ঘ্য ও গতি ভিন্ন।

কিন্তু এই পার্থক্যগুলো প্রমাণ করে না যে তাদের অন্তর্নিহিত সুর সম্পূর্ণ আলাদা।

কারণ একই সুর বিভিন্ন গতি, সুর (key) এবং বাদ্যযন্ত্রের ব্যবস্থায় গাওয়া যেতে পারে।

6. গাণিতিক বিশ্লেষণে পাওয়া সঙ্গৈতিক মিল

দুটি সঙ্গীতের নির্বাচিত সঙ্গীত অংশগুলির মধ্যে Chroma-based Similarity Analysis পরিচালিত হয়েছিল।

Chroma হলো একটি কম্পিউটার-ভিত্তিক সঙ্গীত বৈশিষ্ট্য যা সঙ্গীতে ব্যবহৃত বারোটি পিচ শ্রেণীর শক্তি বণ্টনকে উপস্থাপন করে।

এই পদ্ধতিতে প্রাপ্ত সর্বোচ্চ মান:

গড় ক্রোমা মিল: 0.992

সময়-সংরেখিত ক্রোমা মিল: 0.594

এই মানগুলো 0 থেকে 1 পর্যন্ত একটি স্কেলে গণনা করা হয়েছিল।

0.992 মান নির্দেশ করে যে দুটি নির্বাচিত সঙ্গীত অংশে ব্যবহৃত পিচ শ্রেণীগুলোর গড় বিন্যাস খুবই মিলে যেতে পারে।

কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে দুটি গানের 99.2 শতাংশ একই সুর রয়েছে।

একইভাবে, 0.594 সময়-সংরেখিত মিলের মানও প্রমাণ করে না যে দুটি সঙ্গীতের মূল সুর অভিন্ন।

এই দুটি পরিমাপ ভিন্ন সঙ্গৈতিক বৈশিষ্ট্য মূল্যায়ন করে।

তাদের ফলাফল একই অর্থে সরাসরি ব্যাখ্যা করা যায় না।

7. কোন সঙ্গীত অংশে সর্বোচ্চ মিল পাওয়া গেছে?

পূর্বে পরিচালিত কম্পিউটার-ভিত্তিক তুলনামূলক বিশ্লেষণে নিম্নলিখিত অংশগুলির মধ্যে উচ্চ ক্রোমা মিল পরিমাপ করা হয়েছিল।

ভারতের জাতীয় সংগীত জাফনা Hindu College-এর সঙ্গীত মিলের স্কোর
0:00-0:20 0:39-0:59 0.594
0:00-0:20 3:57-4:17 0.590
0:05-0:25 0:43-1:03 0.575
0:00-0:20 0:05-0:25 0.574

এই ফলাফলগুলো সঙ্গৈতিক পিচ বৈশিষ্ট্যের কম্পিউটার-ভিত্তিক তুলনা থেকে এসেছে।

এগুলো দুটি গানের কিছু অংশে সঙ্গৈতিক মিলের সম্ভাবনা দেখায়।

কিন্তু এই মানগুলো একাই প্রমাণ করে না যে তাদের মূল সুর সম্পূর্ণরূপে অভিন্ন।

8. ট্রান্সপজিশনের পরে মিল কেন বেড়ে গেল?

সঙ্গীতবিদ্যায় ট্রান্সপজিশনের ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ।

একটি গানের অন্তর্নিহিত সঙ্গৈতিক কাঠামো না বদলে অন্য সুরে (key) গাওয়াকে ট্রান্সপজিশন বলে।

একই সুর পুরুষ কণ্ঠের জন্য উপযোগী এক সুরে এবং নারী কণ্ঠের জন্য উপযোগী অন্য সুরে গাওয়া যেতে পারে।

এই গবেষণায় দুটি সেমিটোনের ট্রান্সপজিশনের অনুমতি দেওয়া হলে উচ্চতর ক্রোমা মিল পরিমাপ করা হয়েছিল।

এটি একটি ফলাফল যা আরও সঙ্গীততাত্ত্বিক তদন্তের যোগ্য।

কিন্তু শুধুমাত্র এই ফলাফলের ভিত্তিতে বলা যায় না যে দুটি সঙ্গীতের সুর একই।

এর জন্য তাদের প্রধান নোট ক্রম, সঙ্গৈতিক অন্তরাল, ছন্দ কাঠামো এবং সঙ্গীত পদবন্ধ আলাদাভাবে তুলনা করতে হবে।

9. সঙ্গৈতিক মিল কি সঙ্গৈতিক নকলের প্রমাণ?

দুটি সঙ্গীত সৃষ্টির মধ্যে মিলের বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

সেগুলো একই সঙ্গীত ঐতিহ্য থেকে উদ্ভূত হতে পারে।

সেগুলো সাধারণ রাগ বা সঙ্গৈতিক কাঠামো ব্যবহার করতে পারে।

একজন সুরকার অন্যজনের সৃষ্টি দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন।

অথবা সঙ্গৈতিক মিল কাকতালীয়ভাবেও ঘটতে পারে।

অতএব, সঙ্গৈতিক মিলের অস্তিত্ব একাই প্রমাণ করে না যে একটি গান অন্যটি থেকে নকল করা হয়েছে।

সঙ্গৈতিক নকলের ঐতিহাসিক দাবি প্রমাণ করতে, সঙ্গৈতিক মিল ছাড়াও, নির্ভরযোগ্য কালক্রম এবং সঙ্গৈতিক আদানপ্রদানের প্রমাণ প্রয়োজন।

বিশেষ করে, এমনকি একটি দলিল যা দেখায় যে একটি সুর অন্যটির আগে বিদ্যমান ছিল, তা একাই প্রমাণ করে না যে পরবর্তী সুরটি সেটি থেকে নকল করা হয়েছিল।

10. AI ও কম্পিউটেশনাল মিউজিকোলজি গবেষণার সীমাবদ্ধতা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গণিত এবং Digital Signal Processing প্রযুক্তি সঙ্গীত সৃষ্টিগুলোর মধ্যকার মিল বৈজ্ঞানিকভাবে তদন্তের জন্য কার্যকর হাতিয়ার।

তবে এই প্রযুক্তিগুলোর ফলাফল তাদের সীমাবদ্ধতাসহ বোঝা অপরিহার্য।

এই গবেষণায় ব্যবহৃত Chroma-based Similarity Analysis দুটি রেকর্ডিং-এ উপস্থিত সঙ্গৈতিক পিচ শ্রেণীগুলোর মধ্যকার মিল মূল্যায়ন করে।

কিন্তু এই পদ্ধতি পূর্ণাঙ্গ Forensic Musicology তদন্তের বিকল্প নয়।

বিশেষ করে, এই গবেষণায় নিম্নলিখিত সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

10.1 মূল সুর আলাদাভাবে নিষ্কাশন করা হয়নি

দুটি রেকর্ডিং-এ মানুষের কণ্ঠস্বর, পটভূমি সঙ্গীত এবং বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের শব্দ থাকতে পারে।

ক্রোমা বিশ্লেষণ এসব শব্দের সম্মিলিত সঙ্গৈতিক পিচ বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে।

অতএব, দুটি গানের প্রধান কণ্ঠসুর আলাদাভাবে নিষ্কাশন না করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না যে তাদের অন্তর্নিহিত সঙ্গৈতিক কাঠামো অভিন্ন।

এর জন্য Vocal Separation এবং Melody Extraction-এর মতো পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।

10.2 সম্পূর্ণ নোট ক্রম তুলনা করা হয়নি

দুটি গানের প্রতিটি সঙ্গীত পদবন্ধে আসা নোট, তাদের ক্রম এবং সময়কাল সম্পূর্ণভাবে তুলনা করা হয়নি।

একই পিচ শ্রেণী ব্যবহার করা দুটি গানের একেবারে ভিন্ন সুর থাকতে পারে।

অতএব, দুটি সঙ্গীতের মূল সুর স্বরলিপিতে রূপান্তর করে নোট ক্রম সরাসরি তুলনা করা প্রয়োজন।

10.3 গানের গতির পার্থক্য

ভারতের জাতীয় সংগীতের রেকর্ডিং-এ আনুমানিক গতি 107.7 BPM এবং জাফনা Hindu College-এর সঙ্গীতের রেকর্ডিং-এ 86.1 BPM পরিমাপ করা হয়েছিল।

এগুলো নির্দিষ্ট রেকর্ডিং থেকে গণনা করা অনুমান মাত্র।

গানের গতি ভিন্ন হওয়ায়, একই সঙ্গীত পদবন্ধও দুটি রেকর্ডিং-এ ভিন্ন সময়কালে আসতে পারে।

এই পার্থক্য বিবেচনায় রেখে তুলনা করার জন্য Dynamic Time Warping (DTW)-এর মতো গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে।

10.4 ট্রান্সপজিশনের প্রভাব

এই গবেষণায় দুটি সেমিটোনের ট্রান্সপজিশনের অনুমতি দেওয়া হলে উচ্চতর ক্রোমা মিল পাওয়া গিয়েছিল।

কিন্তু ট্রান্সপজিশনের পরে মিল বৃদ্ধি একাই প্রমাণ করে না যে দুটি গানের সুর একই।

দুটি সঙ্গীত সৃষ্টি একই পিচ শ্রেণী ভিন্ন ক্রম ও ছন্দ কাঠামোতে ব্যবহার করতে পারে।

অতএব, Transposition-invariant Melody Comparison-এর মতো আরও পদ্ধতি প্রয়োজন।

10.5 অসংশ্লিষ্ট সঙ্গীত সৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করা হয়নি

এটিও এই গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানগত সীমাবদ্ধতাগুলোর একটি।

দুটি সঙ্গীতের মধ্যে পাওয়া মিলের মান অন্য অসংশ্লিষ্ট জাতীয় সংগীত, স্কুল সঙ্গীত এবং ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত সৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করা হয়নি।

এমন তুলনা ছাড়া, 0.594 মিলের মান সঙ্গীততাত্ত্বিকভাবে কতটা উল্লেখযোগ্য তা নির্ধারণ করা যায় না।

এছাড়া, অনেক সময় অংশ ও সুর স্থানান্তর পরীক্ষা করার সময় কাকতালীয়ভাবে উচ্চ মিলের মান উঠে আসতে পারে।

অতএব, উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণ সৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করা এবং পাওয়া মিল কাকতালীয়ভাবে ঘটতে পারে কিনা তা পরিসংখ্যানগতভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

10.6 রেকর্ডিং-এর যুগ এবং মূল রচনার যুগ ভিন্ন হতে পারে

এই গবেষণায় ব্যবহৃত রেকর্ডিংগুলো দুটি সঙ্গীতের মূল রচনা তৈরির যুগের কিনা তা নিশ্চিত করা হয়নি।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গানগুলোর বাদ্যযন্ত্র ব্যবস্থা, গানের গতি, সুর এবং সঙ্গীত পদবন্ধে পরিবর্তন আসতে পারে।

অতএব, বর্তমান রেকর্ডিংগুলোতে পাওয়া সঙ্গৈতিক মিল মূল রচনাগুলোতেও ছিল কিনা তা নিশ্চিত করতে পুরোনো স্বরলিপি রেকর্ড বা ঐতিহাসিক রেকর্ডিং প্রয়োজন।

10.7 জাফনা Hindu College-এর সঙ্গীত কোন বছরে রচিত হয়েছিল তা নিশ্চিত নয়

এটিই এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সীমাবদ্ধতা।

জাফনা Hindu College 1890 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

ভারতের জাতীয় সংগীত ‘Jana Gana Mana’ 1911 সালে রচিত হয়েছিল।

কিন্তু জাফনা Hindu College-এর বর্তমান সঙ্গীত কোন বছরে রচিত হয়েছিল এবং তার মূল সুর কোন বছরে তৈরি হয়েছিল তা এখনও নিশ্চিত হয়নি।

অতএব, শুধুমাত্র কলেজের প্রতিষ্ঠার বছরের ভিত্তিতে বলা যায় না যে তার সঙ্গীত ভারতের জাতীয় সংগীতের আগে তৈরি হয়েছিল।

একইভাবে, বর্তমান প্রমাণের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো সম্ভব নয় যে ভারতের জাতীয় সংগীত আগে তৈরি হয়েছিল।

দুটি সঙ্গীতের প্রকৃত কালক্রম নির্ধারণের জন্য, বিশেষ করে জাফনা Hindu College-এর সঙ্গীত সম্পর্কে প্রাথমিক ঐতিহাসিক দলিল অপরিহার্য।

10.8 সঙ্গৈতিক মিল ঐতিহাসিক প্রভাব প্রমাণ করে না

দুটি সঙ্গীত সৃষ্টির মধ্যে মিলের বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

সেগুলো সাধারণ সঙ্গীত ঐতিহ্য থেকে উদ্ভূত হতে পারে। সেগুলো একই ধরনের রাগ বা সঙ্গৈতিক কাঠামো ব্যবহার করতে পারে। একজন সুরকার অন্যজনের সৃষ্টি দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন। অথবা কাকতালীয় সঙ্গৈতিক মিলও ঘটতে পারে।

অতএব, গাণিতিকভাবে নির্ণীত মিল একাই একটি সঙ্গীত অন্যটি থেকে নকল করা হয়েছে তার প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে না।

ঐতিহাসিক নিশ্চিতকরণের জন্য মূল রচনাগুলোর কালক্রম সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য দলিল, পুরোনো স্বরলিপি রেকর্ড এবং সঙ্গৈতিক আদানপ্রদানের প্রমাণ প্রয়োজন।

10.9 গবেষণার পুনরুৎপাদনযোগ্যতা ও স্বাধীন যাচাইকরণ

একটি কম্পিউটেশনাল মিউজিকোলজি গবেষণার ফলাফল বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত হতে হলে, অন্য গবেষকদের অবশ্যই একই পদ্ধতিতে ফলাফল যাচাই করতে পারতে হবে।

এর জন্য ব্যবহৃত রেকর্ডিংয়ের উৎস, প্রোগ্রামিং কোড, সফটওয়্যার সংস্করণ, গণনা পরামিতি এবং তুলনা পদ্ধতি যথাযথভাবে নথিভুক্ত করতে হবে।

এছাড়া, সঙ্গীতবিদদের দ্বারা স্বাধীন মূল্যায়ন হতে হবে।

এমন যাচাইকরণ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত, এই গবেষণার গাণিতিক ফলাফলগুলোকে প্রাথমিক আবিষ্কার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

11. ভারসাম্যপূর্ণ গবেষণা উপসংহার (Balanced Research Conclusion)

দুটি সঙ্গীত – ভারতের জাতীয় সংগীত ‘Jana Gana Mana’ এবং জাফনা Hindu College-এর ‘Vaazhiya Yaazhnagar Hindu Kalloori’ – এর মধ্যকার সঙ্গৈতিক মিল তদন্তের জন্য পরিচালিত এই প্রাথমিক কম্পিউটার-ভিত্তিক গবেষণা কিছু মজার ফলাফল উন্মোচন করেছে।

দুটি রেকর্ডিং-এর নির্বাচিত অংশগুলির মধ্যে গাণিতিকভাবে পরিমাপযোগ্য ক্রোমা মিল পাওয়া গেছে।

তবে এই মিলগুলো প্রমাণ করে না যে দুটি সঙ্গীতের মূল সুর অভিন্ন।

ঐতিহাসিকভাবে, জাফনা Hindu College 1890 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল – এটি একটি নিশ্চিত তথ্য।

ভারতের জাতীয় সংগীত ‘Jana Gana Mana’ 1911 সালে রচিত হয়েছিল – এটিও ঐতিহাসিকভাবে নিশ্চিত।

কিন্তু জাফনা Hindu College-এর সঙ্গীতের কথা প্রথম কোন বছরে লেখা হয়েছিল এবং তার মূল সুর কোন বছরে তৈরি হয়েছিল তা এখনও নিশ্চিত হয়নি।

অতএব, বর্তমানে উপলব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে দুটি সঙ্গীতের কোনটি আগে লেখা হয়েছিল বা কোন সঙ্গীতসুর আগে তৈরি হয়েছিল তা নির্ধারণ করা যায় না।

বর্তমানে উপলব্ধ বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক প্রমাণ এই মত নিশ্চিত করে না যে ভারতের জাতীয় সংগীত জাফনা Hindu College-এর সঙ্গীতের সুর নকল করে তৈরি করা হয়েছিল, আবার বিপরীত মতটিও নিশ্চিত করে না যে জাফনা Hindu College-এর সঙ্গীত ভারতের জাতীয় সংগীতের সুর নকল করে তৈরি করা হয়েছিল।

একই সঙ্গে, দুটি সঙ্গীতের মধ্যে পাওয়া সঙ্গৈতিক মিল আরও তদন্তের জন্য একটি যুক্তিসঙ্গত সূচনা বিন্দু প্রদান করে।

এই মিলগুলো সাধারণ সঙ্গীত ঐতিহ্যের ফল, কাকতালীয়, নাকি ঐতিহাসিক সঙ্গৈতিক প্রভাবের ফল তা নির্ধারণ করতে আরও ব্যাপক সঙ্গীততাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গবেষণা প্রয়োজন।

বিশেষ করে, জাফনা Hindu College-এর সঙ্গীতের মূল সুর রচনার তারিখ নির্ণয় এই গবেষণার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

এই তারিখ পাওয়া গেলেও, তা একাই কোন সঙ্গীত অন্যটি থেকে নকল করা হয়েছিল তা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট হবে না। সঙ্গৈতিক মিল ছাড়াও, সঙ্গৈতিক আদানপ্রদানের ঐতিহাসিক প্রমাণ প্রয়োজন হবে।

অতএব, বর্তমান গবেষণার ভারসাম্যপূর্ণ উপসংহার নিচের মতো:

দুটি সঙ্গীতের কিছু সঙ্গৈতিক বৈশিষ্ট্যে গাণিতিক মিল পাওয়া গেছে। কিন্তু তাদের মূল রচনার কালক্রম এবং একটি সঙ্গীত অন্যটি দ্বারা সঙ্গৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়েছিল কিনা – এই প্রশ্ন এখনও নিশ্চিত হয়নি। অতএব, বর্তমানে উপলব্ধ প্রমাণ এই উপসংহারে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট নয় যে যেকোনো একটি সঙ্গীত অন্যটি থেকে নকল করা হয়েছিল।

এই উপসংহার বৈজ্ঞানিক গবেষণার মৌলিক নীতিমালা রক্ষা করে এবং একই সঙ্গে উভয় সঙ্গীত সৃষ্টির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যকে সম্মান করে।

12. শেষ কথা

ঐতিহাসিক গবেষণার লক্ষ্য পূর্ব থেকে বিশ্বাস করা একটি মত প্রমাণ করা নয়।

গবেষণার মৌলিক লক্ষ্য হলো উপলব্ধ প্রমাণ পরীক্ষা করা এবং তার ভিত্তিতে সত্য উপলব্ধি করা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সঙ্গৈতিক মিল শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে।

গণিত এই মিলগুলো পরিমাপ করতে সাহায্য করতে পারে।

কিন্তু ঐতিহাসিক সত্য প্রমাণ করতে, নির্ভরযোগ্য দলিল এবং মানব বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অপরিহার্য।

ভারতের জাতীয় সংগীতের সাংস্কৃতিক মহিমা এবং জাফনা Hindu College-এর ঐতিহাসিক মর্যাদাকে সম্মান করে, এই গবেষণা দুটি সঙ্গীতের মধ্যকার সঙ্গৈতিক সংযোগের আরও তদন্তের জন্য একটি বৈজ্ঞানিক ভিত্তি উপস্থাপন করে।

ভারত ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গীতবিদ, ইতিহাসবিদ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গীত ঐতিহ্যের বিশেষজ্ঞ এবং জাফনা Hindu College-এর প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এই গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় ঐতিহাসিক দলিল সরবরাহ করে অবদান রাখতে পারেন।

গবেষণার লক্ষ্য আমাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল প্রমাণ করা নয়। প্রকৃত গবেষণা হলো প্রমাণ যে সত্য উন্মোচন করে তা উপলব্ধি করা।

গবেষণার ধরন: Exploratory Computational Musicology and Historical Research

কেন্দ্রীয় গবেষণা শব্দ: Jana Gana Mana, Jaffna Hindu College, Rabindranath Tagore, Computational Musicology, Chroma Analysis, Digital Signal Processing, Musical Similarity, Historical Evidence, Artificial Intelligence.

গাণিতিকভাবে ভাবুন। বুদ্ধিমত্তার সাথে ইঞ্জিনিয়ার করুন। কৌশলগতভাবে নেতৃত্ব দিন। দায়িত্বের সাথে তৈরি করুন। বিশ্বজুড়ে সম্প্রসারিত হন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে প্রকৃত ব্যবসায়িক মূল্য তৈরি করুন।

#JanaGanaMana #YaalpaanamHinduCollege #NationalAnthem #Musicology #ITImpress

Share this post

Subscribe to our newsletter

Keep up with the latest blog posts by staying updated. No spamming: we promise.
By clicking Sign Up you’re confirming that you agree with our Terms and Conditions.